ট্রাস্ট ইস্যু টেস্ট

ট্রাস্ট ইস্যু টেস্ট: মানুষকে বিশ্বাস করা তোমার জন্য কতটা কঠিন?

ট্রাস্ট ইস্যু টেস্ট শুরু করো

সাইনআপ নেই · যেখানে খুশি শেয়ার করো

বন্ধু বলল 'কাউকে বলব না', আর তুমি মনে মনে ধরে নিলে কাল সকালেই পুরো ক্লাস জেনে যাবে? ক্রাশ দুই ঘণ্টা ধরে সিন করে রেখেছে, আর তোমার মাথায় ততক্ষণে দশ রকম গল্প চলছে? এই ট্রাস্ট ইস্যু টেস্ট ঠিক এই জায়গাগুলো নিয়েই। রোজকার জীবনের ১০টা পরিস্থিতি, প্রতিটিতে চারটা উত্তর, আর শেষে সোজাসাপ্টা একটা রেজাল্ট: তুমি খোলা বই, সাবধানী কিন্তু ন্যায্য, নাকি একেবারে লোহার সিন্দুক।

টেস্টটা ফ্রি, লগইন ছাড়াই খেলা যায় আর দুই মিনিটের বেশি লাগে না। ফোনে বসে একাই দেওয়া যায়, আবার হলের রুমে বা ছাদের আড্ডায় সবাই মিলে দিলে আরও জমে, কারণ তখন বোঝা যায় কে সবার আগে সন্দেহ করে আর কে চোখ বুজে ভরসা করে।

যারা সদ্য নতুন সম্পর্কে ঢুকেছে, যাদের কোনো বন্ধু একবার পিঠে ছুরি মেরেছে, বা যারা শুধু নিজেকে একটু বুঝতে চায়, এটা তাদের সবার জন্যই। রেজাল্টের সাথে ছোট একটা ব্যাখ্যা আসে, তাই শুধু একটা লেবেল দেখে থেমে যেতে হয় না।

1 সৎভাবে ১০টি ছোট প্রশ্নের উত্তর দাও
2 সাথে সাথে তোমার রেজাল্ট দেখো
3 শেয়ার করো আর দেখো কে সবচেয়ে কম বিশ্বাস করে

ট্রাস্ট ইস্যু টেস্ট আসলে কী মাপে?

এটা মাপে তুমি মানুষকে কত তাড়াতাড়ি সন্দেহের সুবিধা দাও, আর কত তাড়াতাড়ি ধরে নাও যে কিছু একটা লুকানো হচ্ছে। একবার ঠকে যাওয়ার পর সাবধান হওয়া খারাপ কিছু নয়; বরং সেটাই স্বাভাবিক। সমস্যা তখন, যখন প্রতিটা দেরি করা রিপ্লাই বা প্রতিটা হাসি তোমার কাছে প্রমাণ মনে হয়।

টেস্টটা তাই মনোবিজ্ঞানীর চেম্বারের বিকল্প নয়, বরং নিজেকে দেখার একটা আয়না। ফলাফল পড়ে অনেকেই প্রথমবার টের পায় যে তারা কাছের মানুষদেরও কতটা যাচাই করে চলে।

ট্রাস্ট ইস্যু টেস্টের ছবি: একটি তালা, এক জোড়া চোখ, একটি চাবি আর একটি চিন্তার বুদবুদ

১০টা প্রশ্নে কী হয় আর স্কোর কীভাবে আসে?

প্রতিটা প্রশ্নে একটা পরিচিত দৃশ্য দেওয়া থাকে আর তোমাকে বেছে নিতে হয় তুমি আসলে কী করো, কী করা উচিত তা নয়। পুরোপুরি ভরসার উত্তরে পয়েন্ট কম, সবচেয়ে সন্দেহপ্রবণ উত্তরে পয়েন্ট বেশি। দশটা শেষ হলে মোট পয়েন্ট থেকে তিনটা রেজাল্টের একটা আসে: ৯ পর্যন্ত খোলা বই, ১৯ পর্যন্ত সাবধানী কিন্তু ন্যায্য, আর তার ওপরে লোহার সিন্দুক।

কোনো টাইমার নেই, পেছনে গিয়ে উত্তর বদলানোও যায়। শেষে রেজাল্ট কার্ডটা মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে বন্ধুকে একই টেস্ট দিতে বলা যায়।

টেস্টে কোন কোন পরিস্থিতি সামনে আসে?

দশটা প্রশ্নের প্রতিটাই এমন কিছু যা তোমার সাথে গত এক মাসে অন্তত একবার ঘটেছে। কয়েকটা নমুনা:

  • ফোনের আসল পাসকোড তোমার কতজন জানে, নাকি একজনও না?
  • এক সহকর্মী বা ক্লাসমেট নিজে থেকে তোমার কাজে সাহায্য করতে চাইল। তুমি কী ভাবো?
  • কেউ বিকাশে টাকা ধার নিয়ে বলল 'বেতন পেলেই দিয়ে দেব'। তুমি কি ধরে নাও টাকাটা গেল?
  • নতুন সম্পর্কের প্রথম সপ্তাহে তুমি কি সব খুলে বলো, নাকি অনেক কিছু রেখে দাও?
  • কেউ দেখা করতে আধা ঘণ্টা দেরি করছে। জ্যাম, নাকি তোমাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না?

রেজাল্টের তিনটা ধরন মানে কী?

খোলা বই মানে তুমি মানুষকে আগে থেকেই ভরসা করো আর প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত ভালোটাই ভাবো; এতে সম্পর্ক সহজ হয়, তবে সুযোগসন্ধানীরা সেটার সুবিধা নিতে পারে। সাবধানী কিন্তু ন্যায্য মানে ভরসা অর্জন করতে হয়, কিন্তু একবার অর্জিত হলে তুমি সেটা ধরে রাখো। লোহার সিন্দুক মানে দরজা খুলতে অনেক সময় লাগে আর একটা ভুলেই আবার বন্ধ হয়ে যায়। তিনটার কোনোটাই রোগ নয়, প্রতিটার নিজের দাম আছে।

আমাদের এখানে বিশ্বাস নিয়ে এত টানাপোড়েন কেন?

যেখানে বন্ধুর ফোনে চোখ রাখা, ক্রাশের লাস্ট সিন চেক করা আর 'কে কী বলেছে' ঘুরে ঘুরে কানে আসা রোজকার ব্যাপার, সেখানে বিশ্বাসের প্রশ্নটা খুব বাস্তব। হলের রুমমেট, টিউশনের টাকা ধার, গ্রুপ চ্যাটের স্ক্রিনশট ফাঁস, সব মিলিয়ে কাকে কতটা ভরসা করা যায় সেটা অনেকেই বারবার ভাবে।

তাই এই টেস্টটা বেশিরভাগ মানুষ একা দেয় না। প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনে পাশাপাশি দেয় আর রেজাল্ট মেলায়, বন্ধুমহলে স্ক্রিনশট ছুড়ে দেয় 'দেখ, আমি লোহার সিন্দুক', আর কেউ কেউ ব্রেকআপের পর নিজেকে পরখ করতে ফেরে। দুই মিনিটের একটা খেলা, কিন্তু আলোচনাটা অনেকক্ষণ চলে।

ট্রাস্ট ইস্যু টেস্ট নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

ট্রাস্ট ইস্যু থাকার লক্ষণ কী কী?

কেউ দেরিতে রিপ্লাই দিলে সাথে সাথে খারাপ কিছু ভাবা, মানুষের কথার পেছনে মানে খোঁজা, কারো কাছে নিজের কথা খুলে বলতে না পারা, আর কাছের মানুষকেও বারবার যাচাই করা। এগুলো সবসময় সমস্যা নয়, তবে যখন প্রতিটা সম্পর্কেই ক্লান্ত লাগে, তখন বোঝা যায় ভরসার জায়গাটা একটু শক্ত হয়ে গেছে।

এই ট্রাস্ট ইস্যু টেস্ট কত সময় নেয়?

দশটা প্রশ্ন, প্রতিটা একটা ট্যাপে। বেশিরভাগ মানুষ দেড় থেকে দুই মিনিটে শেষ করে। অ্যাকাউন্ট খোলা লাগে না, ইমেইল চায় না, আর রেজাল্ট সাথে সাথে স্ক্রিনে আসে।

লোহার সিন্দুক রেজাল্ট পেলে কি আমি সমস্যায় আছি?

না। এর মানে তুমি ভরসা সহজে দাও না আর একবার ঠকলে দরজা দ্রুত বন্ধ করো। অনেক সময় এটা আগের একটা বাজে অভিজ্ঞতার ফল। রেজাল্টের ব্যাখ্যা তোমাকে বিচার করে না, শুধু দেখায় এর ভালো দিক কী আর কোথায় একটু নরম হলে জীবন সহজ হয়।

ব্রেকআপের পর ট্রাস্ট ইস্যু টেস্ট দেওয়া কি ঠিক হবে?

অনেকে ঠিক তখনই দেয়। তখনকার রেজাল্ট সাধারণত বেশি সাবধানী আসে, কারণ ক্ষতটা তাজা। কয়েক মাস পরে আবার দিলে দেখবে উত্তরগুলো বদলেছে, আর সেই তুলনাটাই আসলে কাজের।

আমার উত্তর কি অন্য কেউ দেখতে পাবে?

না। প্রশ্নের উত্তর কোথাও জমা হয় না আর কারো কাছে যায় না। স্ক্রিনে শুধু শেষ রেজাল্টটা দেখানো হয়, আর সেটা শেয়ার করবে কি না পুরোটাই তোমার হাতে।

টেস্টটা কি প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে, নাকি বন্ধুত্ব নিয়েও?

দুটোই। প্রশ্নের মধ্যে ডেটিং আছে, কিন্তু বন্ধুর গোপন কথা, সহকর্মীর সাহায্য আর টাকা ধারের মতো পরিস্থিতিও আছে। তাই সিঙ্গেল হলেও টেস্টটা পুরোপুরি কাজ করে।

সঙ্গীর ওপর ভরসা বাড়ানোর কোনো উপায় আছে?

ছোট কথা থেকে শুরু করো: যা মনে খচখচ করছে তা ধরে না রেখে সরাসরি জিজ্ঞেস করো। প্রতিবার সত্যি উত্তর পেলে ভরসা একটু করে বাড়ে। ফোন চেক করা বা লাস্ট সিন গোনা উল্টো কাজ করে, কারণ তাতে সন্দেহটাই অভ্যাস হয়ে যায়।

আমাদের অন্য টেস্টগুলোও দেখো

সব কুইজ →